সিটিগ্রুপের পূর্বাভাস

চলতি বছরের শেষে কমে আসতে পারে স্বর্ণের দাম

ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির সমন্বিত প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম।

ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির সমন্বিত প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। চলতি বছরের শুরু থেকে এক মাসেরও কম সময়ে মূল্যবান ধাতুটির দর বেড়েছে ২৭ শতাংশের বেশি। তবে ২০২৬ সালেই বৈশ্বিক বিভিন্ন ঝুঁকির প্রায় অর্ধেকই কমে যেতে পারে। সিটিগ্রুপ সম্প্রতি প্রকাশিত এক নোটে জানিয়েছে, ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির আশঙ্কায় স্বর্ণের দামে এখন পর্যন্ত যে প্রিমিয়াম (সংযোজিত মূল্য) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তার উল্লেখযোগ্য অংশ ২০২৬ সালে বাস্তবায়ন নাও হতে পারে অথবা তা দীর্ঘমেয়াদি হবে না। খবর রয়টার্স।

সিটিগ্রুপের বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনা, চীন-তাইওয়ান ঝুঁকি ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ নিয়ে উদ্বেগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ঘিরে অনিশ্চয়তাসহ কয়েকটি মূল ঝুঁকি স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে। তবে বর্তমানে মূল্যবান ধাতুটির দামে এসব ঝুঁকির যে প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে, তার প্রায় অর্ধেকই ২০২৬ সালে বাস্তব রূপ নেবে না, নয়তো বছর পেরোনোর সঙ্গে সঙ্গে এসবের প্রভাব কমে যাবে।

ব্যাংকটি আরো জানায়, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের বছরে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিবেশের দিকে যেতে চাইবে। একই সঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত এবং ইরান ঘিরে উত্তেজনা প্রশমিত হওয়াও বড় ধরনের ঝুঁকি হ্রাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে স্পট মার্কেটে গত সপ্তাহে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ৬০০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। তবে গত সপ্তাহের লেনদেনের শেষ দিন শুক্রবার পরিস্থিতি পাল্টে যায়। এদিন মূল্যবান ধাতুটির দাম ১২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে যায়। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে ডলারের বিনিময় হার ঊর্ধ্বমুখী হওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের মেয়াদ মে মাসে শেষ হলে সাবেক গভর্নর কেভিন ওয়ারশকে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হিসেবে মনোনয়ন দেবেন। এ ঘোষণার পরই মূলত ডলারের বিনিময় হার ঊর্ধ্বমুখী হয়।

সিটিব্যাংক এ বিষয়ে জানায়, ওয়ারশের মনোনয়ন যদি নিশ্চিত হয়, তাহলে রাজনৈতিকভাবে ফেডের স্বাধীনতা বজায় থাকবে। এতে মধ্যমেয়াদে স্বর্ণের দাম কমে আসতে পারে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছানোর পর গত শুক্রবার তীব্র দরপতনের মুখে পড়েছে স্বর্ণ ও রুপা। এদিন স্বর্ণের দাম নেমে আসে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৭০০ ডলারের কাছাকাছি। এ সময় এপ্রিলে সরবরাহ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম স্থির হয় ৪ হাজার ৭৪৫ ডলারে, যা আগের দিনের তুলনায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ বা প্রায় ৬০০ ডলার কম। স্বর্ণের এ মূল্যহ্রাস আশির দশকের শুরুর পর থেকে একদিনে সবচেয়ে বড় পতন বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

স্পট মার্কেটে গত শুক্রবার রুপার দাম ৪০ ডলারের বেশি বা প্রায় ৩৫ শতাংশ কমে নেমে আসে আউন্সপ্রতি ৭৪ ডলারে। বেচাকেনা শেষে ধাতুটির দাম দাঁড়ায় আউন্সপ্রতি ৭৮ ডলার ৫৩ সেন্টে।

গত শুক্রবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বড় দরপতন দেখা গেছে। এ সময় প্যালাডিয়ামের দাম ১৫ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৭০০ ডলারে নেমে আসে। আর প্লাটিনাম ১৭ শতাংশ কমে স্থির হয় আউন্সপ্রতি ২ হাজার ১৭৮ ডলারে।

এ বিষয়ে ওভারসিজ-চাইনিজ ব্যাংকিং করপোরেশনের স্ট্র্যাটেজিস্ট ক্রিস্টোফার ওং বলেন, ‘‌ওয়ারশের মনোনয়নের খবরটি হয়তো মূল্যবান ধাতুর দরপতনের তাৎক্ষণিক কারণ। তবে বাজারে একটি সংশোধন আসা অনেক আগেই প্রয়োজন ছিল।’

কমার্জব্যাংক এজির বিশ্লেষকরাও এক নোটে বলেছেন, মূল্যবান ধাতুর দামের সংশোধন ইঙ্গিত দিচ্ছে, দামের ঊর্ধ্বগতির পর বিনিয়োগকারীরা মূলত মুনাফা তুলে নেয়ার সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন।

আরও